★অদ্ভুত সম্পর্ক ★

রাত একটা সতের বাজে।ঘরে প্রচন্ড অন্ধকার।হঠাৎ দিয়াশলাই এর কাঠি জ্বলে উঠল।বিজয় তার ঠোঁটে থাকা সিগারেট ধরালো আর কাঠিটাকে ছুড়ে ফেলল সাথে ম্যাচ বাক্সকেও তার পিসিটেবিলে।
যেখানে স্মোক এস্ট্রে পরে ছিল।বেনসনের দুটি প্যাকেট।বিজয়ের মুখের ধোঁয়াতে পুরো ঘর ছড়িয়ে গেল।বিজয়ের জুতার বাক্সের দিকে চোখ গেল।কয়েক জোড়া জুতা বাক্সের বাইরে পরে আছে।নতুন জুতার বাক্স কিনলে যা হয় আর কি।পুরোনো অভ্যাস কি যায়।বিজয়ের সিগারেট অর্ধেক শেষ হয়ে গেল এতটুকু ভাবতেই।সিগারেট টানতে টানতে জুতাগুলোর দিকে অবাক হয়ে দেখছিল।ঐ জুতাগুলো যারা পরে তাদের এক একজনের প্রেশার, পারসেপশন ভিন্ন।কিন্তু জাজ করতে গেলে তো এত্ত কিছু চিন্তা করা হয়না।একটু চিন্তা করলে তো বাক-বিতন্ডা কমে যায়

মোবাইল এক হাতে নিয়ে আয়েশাকে স্যরি লিখে ম্যাসেজ করল।আর রিপ্লাইয়ের অপেক্ষা করতে লাগল।রাত বারোটার দিকে আয়েশার সাথে ঝগড়া হয়ে যায়। এতই যদি ভালবাসি তো ঝগড়া আসবে কেন?? এসব কথা ভাবতেই বিজয় আরেকটি সিগারেট ধরালো।আর অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু নাহ…। কোন খবর নেই আয়েশার।

অপেক্ষা করতে করতেই ভোর হয়ে এলো।বাইরে আজান দিচ্ছে। আজানের শব্দে নিরবতা ভাঙলো বিজয়ের। উঠে দাঁড়ালো সে। নামাজটা পড়ে নেই। সকালে নাহয় কল দিবো। নামাজ সেরে জানালা খুলে আকাশ পানে তাকালো বিজয়। আকাশটা আজ কেমন জানি মলিন মনে হচ্ছে। হয়ত বিজয়ের মনের আকাশেই মেঘ জমেছে। যে মেঘ কাটিয়ে হয়ত এখুনি নামবে বৃষ্টি। বিজয় স্বভাবতই এতোটা দুর্বল হয়না৷ তারপরও কেন যেন আজ নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হচ্ছে।

সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। আয়েশার কোনো হদিস নেই। বিজয় অপেক্ষা করেই যাচ্ছে। অপেক্ষার প্রহর গুলোও দীর্ঘ মনে হচ্ছে তার। তারপরও মনে হচ্ছে সে অনন্তকাল অপেক্ষায় থাকবে। বেলা গড়িয়ে বারোটা প্রায়৷ বিজয় এখনো কিছু মুখে তুলেনি। শুধুমাত্র সিগারেট টাই হাতে জ্বলজ্বল করছে। আর তার ধোঁয়ায় চারপাশটা আচ্ছন্ন। শরীরটা অবশ হয়ে আসছে ধীরে ধীরে। বিজয় চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো৷ একটা সময় সিগারেট টাও হাত থেকে গড়িয়ে পড়লো মাটিতে। বিজয়ের চোখ বন্ধ হয়ে এলো। গা এলিয়ে চেয়ারেই অচেতন হয়ে পড়লো বিজয়। এভাবে না জানি কতক্ষণ ছিলো। তার হিসেব কে রাখে……..

চলবে।।।

ছবি © অপেক্ষা

#SJ
#SH