★অদ্ভুত সম্পর্ক★

দ্বিতীয় পর্ব :

হঠাৎ ঘড়ির আওয়াজে বিজয়ের হুশ এলো। দাদার আমলের ঘড়ি, এখনো বিকট শব্দেই বাজে। মনে হয় যেন ছুটির ঘন্টা বাজছে। বিজয় আড়মোড়া ভেঙে ভাবতে লাগলো ইশশ কতক্ষণ না জানি এভাবে অচেতন ছিলাম। কত বেলা গড়িয়ে গেল। এবার উঠতে হবে। কিন্তু পেটে যে সকাল অবধি দানাপানি পড়েনি৷ উঠার শক্তিটুকুও নেই। রহিম কাকাও না জানি কই হারিয়ে গেলো। চিৎকার করে একবার ডাকবে ভাবলো, গলা দিয়ে স্বর ই বেরুচ্ছে নাহ৷

হাত-পাসহ পুরো শরীরটাই যেন অসাড় হয়ে আছে। উঠতে তো হবেই। উঠতে চাইলো জোর খাটিয়ে, অমনি মেঝেতে মুখ থুবড়ে পড়লো। না শরীরটা চলছেই নাহ। এ-ই মুহূর্তে কারো হাতে দেওয়া এক গ্লাস পানিও যেন অনেক বড় কিছু। হঠাৎ কারো উপস্থিতি অনুভূত হলো। এলোকেশী এক নারী নীল শাড়িতে। যেন হুমায়ুন আহমেদের রূপার আবির্ভাব। পরক্ষনেই ভাবলো আরে দূর…..। পুরো জীবনটাই সাহিত্য নির্ভর হয়ে গেছে আমার। অথচ একটা সময় ছিলো যখন আমি কিনা………..। থাক সেই গল্প অন্যদিন শোনাবো।

যা ভাবছিলো বিজয় তাই হলো। এ-ই উপস্থিতির অনুভূতি তার চেনা। বড্ড চেনা। এ যে তারই ভালোবাসার মানুষ আয়েশা। অভিমান ভরা চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে বিজয়ের দিকে। হাতে একগ্লাস পানি। বিজয়ের দিকে বাড়িয়ে দিলো। বিজয় পানির গ্লাসটা হাতে নিয়ে এক চুমুকেই খেয়ে নিলো। এরপর ঝাপসা চোখে সামনের দিকে তাকাতেই দেখে রহিম কাকা দাঁড়িয়ে আছেন।

রহিম কাকা : বাবা আমারে ডাকছিলেন…..???

বিজয়: হ্যাঁ। কই ছিলে এতক্ষণ?

রহিম কাকা : বাজারে গেছিলাম। নুন ফুরিয়ে গেছিলো।তোমাকে কত ডাকাডাকি করলাম উঠলে নাহ। ভাবলাম বেশ রাত করে ঘুমিয়েছো তাই হয়ত উঠছোনা। তাই বাইরে থেকে দরজা লাগিয়েই চলে গিয়েছি। এই বলে বিজয়কে তুলে চেয়ারে বসিয়ে দিলো।

বিজয় : কেউ এসেছিলো কাকা?

রহিম কাকা : না বাবা। ভাবী সাহেবারা তো কাল আইবো।

বিজয়ের মুখে আবার হতাশার চাপ। নাহ…। এ হতাশা তার পরিবারের জন্য নয়। বিজয় ভাবছে অন্যকিছু। আয়েশার অভিমান কি তবে এখনো ভাঙলোনা? মেয়েটার তো এতো রাগ ছিলোনা। তবে কি তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটতে চলেছে এবার?

রহিম কাকা কিচেনের দিকে পা বাড়ালো৷ বিজয়ের খাওয়ার সময় হয়েছে।

ইদানীং বিজয়ের সব ভাবনা ঘিরেই কেন জানি আয়েশা বাস করে। কোথা হতে জানি আয়েশার অবয়ব চলে আসে কল্পনায়। বাস্তবে কি কখনো আয়েশা হিমুর রূপাবেশে বিজয়ের সামনে এসে দাঁড়াবে? মেয়েটা যে বড্ড লজ্জাবতী। ভাবতে ভাবতে বিজয় আবার আরেকটা সিগারেট ধরালো। সিগারেটের ধুঁয়ার উড়ে যাওয়া দেখে বিজয়ের কেন জানি আবার আয়েশার কথা মনে পড়ছে। তবে কি আয়েশা সূদুরে ভেসে যাবে? বিজয় আর কিছু ভাবতে পারছেনা। ক্ষিধে টাও চলে গেছে। মোবাইলে রবীন্দ্রগীতি চালু করে চেয়ারে গা এলিয়ে দিলো। সে আবার রবীন্দ্রগীতির পাগল কিনা। ঘোরের মধ্যে ডুবে গেলো ধীরে ধীরে…….।

(চলবে)

ছবি : অপেক্ষা

#SJ
#SH