★ অদ্ভুত সম্পর্ক ★

#তৃতীয়_পর্ব :

বিজয় কবে ঘোরের মাঝে হারিয়ে গেছে নিজেই জানে না। রবীন্দ্র সংগীতের মোহে আচ্ছন্ন হয়ে গেছে পুরোপুরি৷ বাইরে আকাশ ডাকছে। কালো মেঘে ছেঁয়ে যাচ্ছে চারপাশ। আকাশের বুঝি আজ মনে খারাপ খুব, যেকোন মুহূর্তে কান্না হয়ে ঝড়ে পড়বে। এমন মুহূর্তে রবীন্দ্র সংগীতের তালে পুরোপুরি আচ্ছন্ন হওয়া অবশ্য দোষের কিছু নাহ। রহিম কাকা খাবার নিয়ে এসে বিজয়কে ডাক দিলেন –

বাবা….। খাইবা নাহ? খাবার নিয়ে এলাম যে। রাতেও খেলেনা। এভাবে চললে যে শরীর খারাপ করবে বাবা।
এ-ই বুড়ো মানুষটা সারাক্ষণ এতো খেয়াল রাখে যে বিজয় মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হয়ে পড়ে। তাও মুখে কিছু বলেনা৷ যাই হোক। উঠা দরকার। উঠে কিছু খেয়ে নেই। ক্ষিধের জ্বালা অবশ্য বহুকাল আগেই মিটে গেছে। তারপরও খেতে হবে৷ নয়ত যদি আয়েশা এসে জানতে পারে তবে বকবে ভীষণ।

উঠার চেষ্টা করেও উঠতে পারছেনা বিজয়। ক্ষিধে না থাকলেও শক্তি কমে গেছে৷ রহিম কাকা কাঁধে ভর দিয়ে বিজয়কে বসিয়ে দিলেন খাবার টেবিলে। খেতে ইচ্ছে করছেনা একেবারেই৷ কিন্তু খাওয়া দরকার। কোনরকমে কিছু খেয়েই লাইব্রেরিতে গিয়ে বসতে হবে। কবিতা লেখার অভ্যাস কি এতো সহজে ছাড়া যায়? আজ সে অভিমানী কন্যাকে নিয়ে লিখবে৷ যার মধ্যে প্রচুর ভালোবাসার পাশাপাশি আছে আকাশসম অভিমান।

হালকা খেয়ে বিজয় উঠে পড়লো। রহিম কাকাকে বলে লাইব্রেরিতে গিয়ে বসে পড়লো চিরাচরিত অভ্যাস চর্চার কাজে। চোখের সামনে ভাসছে আয়েশার অভিমানী মুখ। এ-ই বেশেও মেয়েটাকে কি দারুণ লাগছে। সত্যি নারীরা আসলেই রূপবতী হয়। যদি নিষ্পাপ ছাপ ধরে রাখতে পারে তবে। আর খালি চোখে সেই রূপ কেউ ধরতে পারবেনা৷ অন্তরচক্ষু দিয়ে দেখলে তবেই সম্ভব।

“অভিমানী দুচোখে কত কথা লুকায়িত
শান্ত স্বভাবের যেন অশান্তি বিরাজিত
যে চাহনিতে হৃদয় চিড়ে হয় ক্ষত-বিক্ষত
সে চাহনি দেখিতে আমি রই অপেক্ষারত।”

নাহ। আয়েশা এখনো কল করছে নাহ৷ তারমানে কি এবারের অভিমান কড়া ভীষণ? এমনতো হয়না কখনো। রোজতো সেই এসে সব সামলে নেয়। তবে কি এবার সে চায় কেউ গিয়ে তার রাগ ভাঙিয়ে দিক। ভাবতে ভাবতে চোখ ঝাপসা হয়ে এলো বিজয়ের। টেবিলেই অচেতন হয়ে পড়ে রইল আবারো। হাতে কলম আর পাশে পড়ে থাকা কবিতার পাতা……।




(চলবে)

ছবি : অপেক্ষা

#SJ

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান