সেরেনা উইলিয়ামস এবং ভেনাস উইলিয়ামস টেনিস দুনিয়ার দুই রানী।শুধু নারীদের মধ্যে কেন পুরুষ টেনিস তারকাদের যখন তখন হারিয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
দুই বোনের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠার গল্পটা যতটা অনুপ্রেরণা দেয়।কিন্তু এর পিছনের মুল কারিগরের গল্পটা খুব বেশি প্রচলিত নেই।সেই কারিগর এবং দুই উইলিয়ামস এর ছোটবেলার গল্প নিয়ে নতুন মুভি আসছে। সেই কারিগর আর কেউ নন রানীদের পিতা। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন হলিউডের ব্যাড বয় নামে পরিচিত উইল স্মিথ।
“কিং রিচার্ড ” নামের মুভিটি নভেম্বরের ১৯ তারিখ এইচবিও ম্যাক্সে স্ট্রিম করা হবে। অনেকটা অপ্রচলিত গল্পই উঠে আসবে মুভিতে।
২০১৫ এর আজকের দিনে ডেভিড মিলারকে সাব্বিরের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০০তম উইকেট তুলে নেন মাশরাফি।
২৩ শে নভেম্বর ২০০১ সাল।চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের প্রথম ম্যাচে অভিষিক্ত হন তিন জন বাংলাদেশী।তারা হলেন ফাহিম মুনতাসির,তুষার ইমরান এবং মাশরাফি বিন মোর্তজা।তখন কে জানত এই তিনজনের একজনের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত ওয়ার্ল্ডকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলবে।
সেই ম্যাচ বাংলাদেশ হেরে গেলেও মাশরাফি তার ছাপ রাখেন ব্যাটসম্যানদের সমীহ এবং উইকেট দুটোই আদায় করে।তখন সবাই আসা করতে থাকে যে ম্যাগ্রাথ, ভাস, ওয়াসিম, শোয়েবদের মত ২২ গজে গতির ঝড় উঠাতে কেও উঠে আসছে বাংলাদেশ থেকে।
ইনজুরি নামের অভিশাপ কেড়ে নিল সব আশা। ইনজুরির কারনে তিনি খেলায় নিয়মিত হতেই পারছিলেন না।নইলে আজ হয়ত তার উইকেট সংখাটা ৪০০+ থাকতেই পারত।
ইনজুরির কারনে সর্বশেষ সাদা পোশাকে খেলেছিলেন ২০০৯ এ। মাশরাফি ইনজুরির কাছে অনেকবার হেরে গেছেন কিন্তু দমে যাননি।২০১১ সালে বিশ্বকাপ ঘরের মাটিতে।প্রথম ম্যাচ ভারতের বিরুদ্ধে যে ভারতকে ২০০৭ বিশ্বকাপে হারিয়ে ইতিহাস রচনায় মুল ভুমিকা পালন করেন মাশরাফি।কিন্তু ঘরের মাটিতে খেলা হওয়া সত্ত্বেও স্কোয়াডে নেই তিনি।কারন ইনজুরি।
অনেকটা মুষড়ে পরেন মাশরাফি।কিন্তু আবার ফিরে আসার যুদ্ধ শুরু করেন এবং বেশ শক্ত হয়েই ফিরে আসেন মাঠে।সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ যখন পেয়ে যান তখন দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে হারিয়ে দেন বিগ থ্রি এর তকমা লাগানো ইংল্যান্ডকে।বাংলাদেশকে নিয়ে উঠে যান প্রথমবারের মত কোয়ার্টার ফাইনালে ২০১৫ তে।
দেশে ফিরে বাংলাদেশ তার জয়রথ ছোটাতেই থাকে।প্রথমে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ পরে ভারত এবং দক্ষিন আফ্রিকার মত দলকে সিরিজে পরাজিত করা।এরমাঝেই মাশরাফি তার ২০০তম উইকেট তুলে নেন। যা বাংলাদেশীদের মধ্যে দ্বিতীয়।প্রথমবার নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।
অনেক খেলোয়ারই আছেন ক্রিকেটে যারা দুই একবার অপারেশনের পর খেলা ছেড়ে দেন।আর মাশরাফি একজন ইনজুরি তাকে যত জর্জরিত করুক না কেন উনি হেরে গিয়েও ঘুরে দাড়িইয়েছেন বারবার।
হয়তবা ৪০০+ উইকেট নেওয়া হয়নি কিন্তু বাংলাদেশকে একটা অবস্থানে দাড় করানো কম কিছু নয়।
গত লকডাউনে নেটফ্লিক্সে একটা শো দেখেছিলাম “ক্রিকেট ফেভার” নামে।এটা মুলত গড়ে উঠেছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এবং আইপিএলকে কেন্দ্র করে।মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্লেয়ারদের সাথে মালিকের সম্পর্ক, কোচদের সাথে প্লেয়ারদের সম্পর্ক সব না দেখালেও তার একটা ধারনা পাওয়া যায় এই শো থেকে।
মুস্তাফিজুর রহমানও সেই স্কোয়াডে ছিলেন তখন।তাকে নিয়ে দলের অধিনায়ক থেকে শুরু করে অন্যান্য প্লেয়ার, কোচ, মালিকের উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না।ফিজকে নিয়ে সমস্যা ছিল কেবল এক জায়গায়।সেটা ভাষাগত।এই কথা এক সময়ের সেরা পেসার শেন বন্ড সরাসরি বলেন। তিনি বলেন- “ওকে তো শুধু দেশের হয়েই খেলতে হবে না।আইপিএল, বিগ ব্যাশ,সিপিএল, পিএসএল, ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে হবে।ভাষাগত দিকে যত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারবে তত দ্রুত সে পারফর্মেন্সে ভাল করতে পারবে।কাকে কি বল করতে হবে দ্রুত বুঝে যাবে”।
ঐ বছর ফিজের ট্রান্সলেটর হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের সেরা টেস্ট ওপেনার নাফিস ইকবাল।শেন বন্ড, মহেলা ব্যাপারটা নাফিসের সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করেন।নাফিস এরপর ফিজকে একাই মুভি দেখতে, শপিং করতে পাঠিয়ে দিতেন।
ফিজের ব্যাপারটা উদাহরণস্বরূপ আনা। আশা করি সে এই সমস্যা দ্রুত উতরে যাবে।
মালিংগা,বন্ডদের সাথে মুস্তাফিজ এবং নাফিস
এরকম অনেক ফিজ তো আমাদের লিডারশিপেও দেখা যায়।ভাষাগত জ্ঞানের অভাবে ঠিকমত সামনে এগুতে পারেনা কিন্তু তাদের পটেনশিয়াল অনেক। বর্তমান পৃথিবীতে টিকে থাকতে হলে ৩-৪ টি ভাষায় জ্ঞান থাকা জরুরি একজন লিডারের।তাহলে তার কনফিডেন্স লেভেল বেশ হাই থাকে কারন সে যে ব্যাপারে ডিসিশন নিতে যাচ্ছে তার আগে বিভিন্ন ভাষার লোকের রিয়েকশন জেনেছে।