২০১৫ এর আজকের দিনে ডেভিড মিলারকে সাব্বিরের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করিয়ে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০০তম উইকেট তুলে নেন মাশরাফি।
২৩ শে নভেম্বর ২০০১ সাল।চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ের প্রথম ম্যাচে অভিষিক্ত হন তিন জন বাংলাদেশী।তারা হলেন ফাহিম মুনতাসির,তুষার ইমরান এবং মাশরাফি বিন মোর্তজা।তখন কে জানত এই তিনজনের একজনের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মত ওয়ার্ল্ডকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে খেলবে।
সেই ম্যাচ বাংলাদেশ হেরে গেলেও মাশরাফি তার ছাপ রাখেন ব্যাটসম্যানদের সমীহ এবং উইকেট দুটোই আদায় করে।তখন সবাই আসা করতে থাকে যে ম্যাগ্রাথ, ভাস, ওয়াসিম, শোয়েবদের মত ২২ গজে গতির ঝড় উঠাতে কেও উঠে আসছে বাংলাদেশ থেকে।

ইনজুরি নামের অভিশাপ কেড়ে নিল সব আশা। ইনজুরির কারনে তিনি খেলায় নিয়মিত হতেই পারছিলেন না।নইলে আজ হয়ত তার উইকেট সংখাটা ৪০০+ থাকতেই পারত।
ইনজুরির কারনে সর্বশেষ সাদা পোশাকে খেলেছিলেন ২০০৯ এ। মাশরাফি ইনজুরির কাছে অনেকবার হেরে গেছেন কিন্তু দমে যাননি।২০১১ সালে বিশ্বকাপ ঘরের মাটিতে।প্রথম ম্যাচ ভারতের বিরুদ্ধে যে ভারতকে ২০০৭ বিশ্বকাপে হারিয়ে ইতিহাস রচনায় মুল ভুমিকা পালন করেন মাশরাফি।কিন্তু ঘরের মাটিতে খেলা হওয়া সত্ত্বেও স্কোয়াডে নেই তিনি।কারন ইনজুরি।
অনেকটা মুষড়ে পরেন মাশরাফি।কিন্তু আবার ফিরে আসার যুদ্ধ শুরু করেন এবং বেশ শক্ত হয়েই ফিরে আসেন মাঠে।সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ যখন পেয়ে যান তখন দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে হারিয়ে দেন বিগ থ্রি এর তকমা লাগানো ইংল্যান্ডকে।বাংলাদেশকে নিয়ে উঠে যান প্রথমবারের মত কোয়ার্টার ফাইনালে ২০১৫ তে।
দেশে ফিরে বাংলাদেশ তার জয়রথ ছোটাতেই থাকে।প্রথমে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ পরে ভারত এবং দক্ষিন আফ্রিকার মত দলকে সিরিজে পরাজিত করা।এরমাঝেই মাশরাফি তার ২০০তম উইকেট তুলে নেন। যা বাংলাদেশীদের মধ্যে দ্বিতীয়।প্রথমবার নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান।

অনেক খেলোয়ারই আছেন ক্রিকেটে যারা দুই একবার অপারেশনের পর খেলা ছেড়ে দেন।আর মাশরাফি একজন ইনজুরি তাকে যত জর্জরিত করুক না কেন উনি হেরে গিয়েও ঘুরে দাড়িইয়েছেন বারবার।
হয়তবা ৪০০+ উইকেট নেওয়া হয়নি কিন্তু বাংলাদেশকে একটা অবস্থানে দাড় করানো কম কিছু নয়।